রাতের গভীরে, যখন পুরো দুনিয়া ঘুমিয়ে থাকে, তখন যে বান্দা উঠে দাঁড়ায় আল্লাহর সামনে -- তার এই নীরব মুহূর্তটার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অন্যরকম। তাহাজ্জুদ নফল সালাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ, আর এর পেছনের কারণটা হাদিসেই স্পষ্ট বলা আছে।
তাহাজ্জুদের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকে, তখন আমাদের প্রতিপালক মহান ও কল্যাণময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কে এমন আছ, যে এখন আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে এমন আছ যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। কে এমন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।" 📚 [সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭৭২]
রাতের এই সময়টাতে দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি -- এই একটা কারণই তাহাজ্জুদকে অন্য নফল ইবাদত থেকে আলাদা করে তোলে।
কত রাকাত পড়বেন?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত অভ্যাস ছিল ১১ রাকাত (বিতরসহ):
"আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকাত সালাত আদায় করতেন। এ ছিল তাঁর রাত্রিকালীন সালাত। এতে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তাঁর মাথা উঠাবার পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারে।" 📚 [সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৯৪]
তিরমিযীর একটা বর্ণনায় এসেছে, সর্বনিম্ন ৯ আর সর্বোচ্চ ১৩ রাকাত (বিতরসহ) পড়ার কথাও জানা যায়। 📚 [সুনান তিরমিযী, হাদীস ৪৪৪]। তবে কঠোর কোনো সংখ্যা নেই -- ২ রাকাত পড়লেও তাহাজ্জুদ আদায় হয়ে যায়। ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত দু দু রাকআত করে পড়তেন।" 📚 [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩১৮]
কীভাবে পড়বেন -- ধাপে ধাপে
- ঘুমান তাড়াতাড়ি -- এশার পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লে রাতের শেষভাগে উঠা সহজ হয়।
- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে উঠুন -- ফজরের আগে, সেহরির সময়ের কাছাকাছি সময়টা সবচেয়ে উত্তম। প্রয়োজনে অ্যালার্ম ব্যবহার করুন।
- মিসওয়াক করুন -- এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত সুন্নাত ছিল। 📚 [সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৩৬]
- অযু করুন এবং নিয়ত করুন -- মুখে নিয়ত বলা জরুরি না, মনে মনে ঠিক করাই যথেষ্ট।
- ২ রাকাত করে পড়ুন -- যতটুকু সামর্থ্য/সময় আছে অনুযায়ী ২, ৪, ৬, ৮ রাকাত (শেষে বিতর দিয়ে শেষ করুন)।
- দীর্ঘ সময় নিন -- তাড়াহুড়া না করে, রুকু-সিজদায় সময় দিন, দুআ করুন।
কেন সবাই এটা মিস করে ফেলে?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আব্দুল্লাহ ইবনু আমরকে সতর্ক করে বলেছিলেন:
"অমুক ব্যক্তির মত হবে না, যে রাত্রে জাগ্রত হয় অথচ তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে না।" 📚 [সুনান নাসাঈ, হাদীস ১৭৬৩]
বাস্তবতা হলো, তাহাজ্জুদের সবচেয়ে বড় বাধা ঘুম না, বরং সংকল্পের অভাব। প্রথম কয়েকদিন কঠিন লাগবে, কিন্তু ধারাবাহিকতা রাখলে শরীর নিজে থেকেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। সপ্তাহে ২-৩ দিন দিয়ে শুরু করুন, ধীরে ধীরে বাড়ান -- আল্লাহর কাছে অল্প হলেও নিয়মিত আমল সবচেয়ে প্রিয়।